পবিত্র রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা ও পরামর্শ

রমজান মাস সারাবিশ্বের মুসলিম ভাইদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র মাস। এই মাসে মুসলিমগণ ফযর ওয়াক্ত থেকে মাগরিব পর্যন্ত সব ধরণের খাদ্য-পানীয় থেকে বিরত থাকেন। মহান আল্লাহতাআলার সন্তুষ্টির জন্য এই মাসের সিয়াম সাধনা অন্যান্য মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ।

আরবী মাস গুলো চাঁদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই রমজান মাস কখনও ২৯ দিন আবার কখনও ৩০ দিনের হয়। এ মাসে দিনের ভাগ বিভিন্ন ঋতুতে ও বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন হয় অর্থাৎ ১২ থেকে ২০ ঘণ্টারও বেশী হতে পারে। দিনের ভাগ যতই বেশী হোক না কেন এ মাসে মুসলিমগণ আল্লাহতাআলার বিধানমতো রোজা পালন করেন। এ সময় সব ধরণের পানাহার বন্ধ থাকে এবং ইফতার থেকে শুরু করে সেহেরী পর্যন্ত সময়ে যত ইচ্ছা পানাহার করতে ধর্মীয় ভাবে নিষেধ নেই।

রমজান মাসে মুসলিমগণের খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ করে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ডায়াবেটিস রোগ এবং এর চিকিৎসা যেহেতু খাদ্য গ্রহণের সাথে সম্পর্কযুক্ত, তাই রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসের সাথে মিলিয়ে চিকিৎসায় বিশেষ পন্থা অবলম্বন করতে হয়।

আমি আজকের লেখায় রমজান মাসে ডায়াবেটিস চিকিৎসা কি হওয়া উচিৎ তা নিয়ে কিছুটা বিশদ আলোচনা করব। আমার এই লেখাটি মূলত চিকিৎসার পটভূমিতে রচিত, তাই এখানে চিকিৎসার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এই লেখা পরে কেউ নিজে নিজে ঔষধ বা ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন করবেন না। রোজার আগেই আপনার ডায়াবেটিস চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে মুখে খাওয়ার ঔষধ বা ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন করবেন।

রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীর কিছু ঝুঁকি থাকে, যেমনঃ (ক) হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তের গ্লুকোজ মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়া), (খ) হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তের গ্লুকোজ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া), (গ) ডায়াবেটিক কিটো-এসিডোসিস (মাত্রাতিরিক্ত গ্লুকোজের পাশাপাশি রক্তের কিটো-এসিড বেড়ে যাওয়া, (ঘ) ডিহাইড্রেশন (পানিশুন্যতা)। রমজানের পূর্বেই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ঔষধ বা ইনসুলিনের ডোজ সমন্বয় করে এই ঝুঁকি সমূহ এড়ানো সম্ভব।

যারা ইনসুলিন নিঃসরন বর্ধক (Secretagogues) ঔষধ সেবন করেন (যেমনঃ গ্লাইবেনক্লামাইড, গ্লিপিজাইড, গ্লিক্লাজাইড, গ্লিমেপিরাইড, রেপাগ্লিনাইড, ন্যাটিগ্লিনাইড) বা ইনসুলিন নেন তারা হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই রোজার আগেই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ডোজ পরিবর্তন করে নিন।

যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই তারা “রমজানে ডায়াবেটিস কমে যায়” মনে করে ঔষধ বা ইনসুলিন এর ডোজ কমিয়ে দিলে হাইপারগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। এদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিক কিটো-এসিডোসিস দেখা দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। (টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদেরও এটা হতে পারে)

গরম কালে প্রচুর ঘাম হয় এবং গরম কালের রমজানে রোজাদারের পানি শুন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীরা ইফতারের সময় থেকে সেহেরী পর্যন্ত প্রচুর পানি ও ফলের রস পান করবেন। তবে, যেসব ডায়াবেটিস রোগীর কিডনীর কার্যক্রমে কোন জটিলতা আছে তাদের চিকিৎসকের নির্দেশ মত পানি পান করতে হবে।

রোজার মাসে রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীর মুখে খাওয়ার ঔষধ বা ইনসুলিনের ডোজ কমানোর প্রয়োজন হয়। সাধারণ নিয়মে, ঔষধ বা ইনসুলিনের সারাদিনের পরিমান যত হয় মোটামুটিভাবে তার অর্ধেক ইফতারের সময় এবং ৪ ভাগের ১ ভাগ সেহেরীর সময় নিতে হয়। তবে আপনারা নিজে নিজে ডোজ পরিবর্তন করবেন না। রোজার আগেই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন।

সেহরীর খাদ্যঃ যথা সম্ভব দেরীতে সেহেরী গ্রহন করুন। জটিল শর্করা গ্রহন করতে চেষ্টা করুন। যেমনঃ বার্লি, আটার রুটি, জই, সুজি, খেজুর, বাদাম, মটরশুঁটি, ডাল, পাকা কলা এবং আঁশ যুক্ত খাদ্যঃ ভুষি, শস্য ও বীজ, সবুজ শাক-সবজি, কাজু বাদাম ইত্যাদি।

ইফতারের খাদ্যঃ যথা সম্ভব দ্রুত ইফতার করুন। সাধারন খাদ্য গ্রহন করুন। যেমনঃ ভাত বা ভাত জাতীয় খাদ্য, খেজুর, ফলের রস, পানি। বর্জন করুনঃ ভাজা-পোড়া খাদ্য, চর্বি ও তৈলাক্ত খাদ্য, চিনি ও গুড়ের তৈরী খাদ্য, চা, সফট ড্রিঙ্কস ইত্যাদি।

পানি পানঃ ইফতার থেকে সেহেরী পর্যন্ত সময়ে মোটামুটি ৮ গ্লাস বা ২ লিটার পানিই যথেষ্ট। চা, কফি, সফট ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলুন।

হাঁটা ও ব্যায়ামঃ রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীর সারাদিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরা করতে কোন বাধা নেই। খুব বেশী ব্যায়াম বা অতিরিক্ত হাঁটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া করতে পারে, বিশেষ করে ইফতারের কয়েক ঘন্টা আগে। তাই, যোহরের নামাজের পর থেকে ইফতারের আগে পর্যন্ত অধিক কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করাই ভালো। নিয়মিত তারাবী নামাজ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সারাদিনের হাঁটা ও ব্যায়ামের মতো কাজ করবে।

রক্তের গ্লুকোজ মাপাঃ সারা দিনে কয়েকবার বাসায় গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ করুন। যাতে গ্লুকোজের মাত্রা খুব বেশী কমে গেলে বা বেড়ে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা যায়। বিশেষত যারা টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগী এবং টাইপ ২ রোগীর ক্ষেত্রে যারা ইনসুলিন নেন।

রোজা ভাঙ্গাঃ দিনের যে কোন সময়ে রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা যদি ৩.৫ মিলিমোল/লিটার বা তার নীচে নেমে যায় তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ। না হলে, মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। আবার, সেহেরী খাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা যদি ৪.০ মিলিমোল/লিটার বা তার নীচে নেমে যায় তাহলে তারও রোজা ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ। ঘন ঘন বমি বা পাতলা পায়খানা হলে বা অসুস্থতার সময় রোজা না রাখাই উচিৎ।

যে সব টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায়নি বা সবসময় বিপজ্জনক মাত্রায় থাকে, তাদের রোজা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগী, যারা শুধুমাত্র খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে গ্লুকোজের মাত্রা সঠিক রাখেন, তাদের রোজা রাখতে কোন বাঁধা নেই।

রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীদের রমজানের পূর্বেই কতগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে রাখা উচিৎ। যেমনঃ রোজা রাখা অবস্থায় নিজের যত্ন কিভাবে নিবেন, হাইপোগ্লাইসেমিয়া কি এবং এর উপসর্গ ও চিহ্ন গুলো কি কি, কিভাবে হাইপোগ্লাইসেমিয়া মোকাবিলা করবেন, রক্তের গ্লুকোজ মাপার পদ্ধতি, খাদ্য গ্রহণে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করবেন, কি ধরনের ব্যায়াম করবেন, পানি শুন্যতা ইত্যাদি।

চিকিৎসাঃ টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হিউম্যান ইনসুলিন এর বদলে এনালগ জাতীয় ইনসুলিন গুলো ভালো কাজ করে। দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারে এরূপ ইনসুলিন বাছাই করা উচিৎ, সাথে স্বল্প সময় কাজ করে এরূপ ইনসুলিন এর সমন্বয় হলে আরও ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়। তবে আপনার চিকিৎসক যেটা নির্ধারণ করে দিবেন সেটাই মেনে চলা উচিৎ।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যঃ যারা শুধুমাত্র খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে ভালো আছেনঃ তাদের রোজা রাখাতে কোন অসুবিধা নেই, তবে সেহেরী ও ইফতারের পরে হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে গ্লুকোজ অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে। তাই, একবারে পেট ভরে না খেয়ে, সমপরিমান খাবারই কয়েকবারে খেলে এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। যারা ডায়াবেটিসের মুখে খাওয়ার ঔষধ সেবন করেনঃ ইনসুলিনের কার্যকারিতা বর্ধক (Sensitizer) ঔষধ সাধারণত কোন সমস্যা করে না। ইনসুলিন নিঃসরন বর্ধক (Secretagogues) ঔষধগুলোর কারনে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এজাতীয় ঔষধগুলোর ডোজ অথবা ঔষধ পরিবর্তন করা লাগতে পারে। যারা ইনসুলিন নেনঃ দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারে এরূপ ইনসুলিন এর সাথে স্বল্প সময় কাজ করে এরূপ ইনসুলিন এর সমন্বয় করে ইনসুলিন দেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ভাবে ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে, তবে আপনার চিকিৎসক যেটা নির্ধারণ করে দিবেন সেটাই মেনে চলা উচিৎ।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে যাদের ডায়াবেটিস পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে, তাদের রোজা রাখতে কোন বাঁধা নেই। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীদের সাধারণত খাদ্য গ্রহণের পর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। ইনসুলিনের ডোজ সমন্বয় করে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। তবে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা না রাখার জন্য বিশেষজ্ঞগন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রমজানে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত ঔষধ ব্যবহার করে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুপারিশকৃত চিকিৎসা ব্যাবস্থাঃ

(এখানে ঔষধের জেনেরিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে, বাজারে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ পাওয়া যাবে। প্যাকেটের গায়ে ঔষধের নামের নীচে ছোট করে মূল উপাদানের যে নাম লেখা থাকে সেটাই জেনেরিক নাম)

রমজানের পূর্বে ঔষধ ও ডোজ

রমজানে ঔষধ ও ডোজ

যাদের শুধুমাত্র খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও হাঁটার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
যারা ডায়াবেটিসের মুখে খাওয়ার ঔষধ সেবন করেনঃ
মেটফরমিন তিন বেলা মোট ডোজের দুই তৃতীয়াংশ ইফতারের সময়, এক তৃতীয়াংশ সেহেরীর সময়।
মেটফরমিন দুই বেলা সকালের ডোজ ইফতারের সময়, রাতের ডোজের অর্ধেক সেহেরীর সময়।
মেটফরমিন এক বেলা একই ডোজ ইফতারের সময় দিতে হবে।
পায়োগ্লিটাজোন বা রসিগ্লিটাজোন এক বেলা কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
গ্লিমেপিরাইড বা গ্লিক্লাজাইড এক বেলা একই ডোজ ইফতারের সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে ডোজ কিছুটা কমাতে হবে।
গ্লাইবেনক্লামাইড বা গ্লিক্লাজাইড দুই বেলা সকালের ডোজ ইফতারের সময় দিতে হবে। সেহেরীর সময় রাতের ডোজের অর্ধেক দিতে হবে।
রেপাগ্লিনাইড শুধুমাত্র ইফতার ও সেহেরীর সময় দিতে হবে।
ভিলডাগ্লিপটিন, সিটাগ্লিপটিন কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
যারা ইনসুলিন নেনঃ
এক বেলার ইনসুলিন (লং একটিং এনালগ) কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
দুই বেলার ইনসুলিন মোট ডোজের অর্ধেক ইফতারের সময় এবং মোট ডোজের এক চতুর্থাংশ সেহেরীর সময় দিতে হবে।
তিন বেলার ইনসুলিন মোট ডোজের অর্ধেক ইফতারের সময় এবং মোট ডোজের এক চতুর্থাংশ সেহেরীর সময় দিতে হবে।
জিএলপি-১ এগোনিস্ট (লিরাগ্লুটাইড) কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।

(সকল ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এই ফর্মুলা সমান কার্যকরী নাও হতে পারে। আপনি অবশ্যই রমজানের পূর্বে আপনার ডায়াবেটিস চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ডোজ নির্ধারণ করে নিবেন।)

রমজানের পর পরই ওজন, ব্লাড প্রেশার, লিপিড প্রোফাইল এবং এইচবিএ১সি পরীক্ষা করে পুণরায় সারাবছরের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে কেউ কেউ কিছু অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকেন। আমার অনুরোধ, নিজের স্বার্থেই দয়া করে কোনরূপ অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। এর ফলাফল কোন কোন সময় এতই মারাত্মক হয় যে, সেখান থেকে ফিরে আসা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

 

ডাঃ এম. মঞ্জুর আহমেদ (সজীব)

এমবিবিএস (সিইউ); পিজিটি (সার্জারী); সিসিডি (বারডেম); ইডিসি (বারডেম)

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি স্বীকৃত ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিক ফুট চিকিৎসক

(ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত)